টেক্সটাইল মিলের ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেলে পাওয়ার ফ্যাক্টর ঠিক রাখতে ক্যাপাসিটর ব্যাংক অপরিহার্য। ইনভার্টার, মোটর ও ট্রান্সফরমারের কারণে ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর তৈরি হয়; ক্ষতিপূরণ না দিলে বিদ্যুৎ বিলে সারচার্জ, তার ও ট্রান্সফরমারে অতিরিক্ত তাপ এবং ভোল্টেজ ড্রপ দেখা দেয়। সমস্যা বাঁধে যখন কোনো পুরনো ক্যাপাসিটর বা সম্পূর্ণ ব্যাংক বিকল হয়, আর দেখা যায় আসল ক্যাপাসিটর আর বাজারে নেই।
পুরনো প্যানেলের ক্যাপাসিটর প্রায়ই আমদানি করা সরঞ্জামের অংশ, যার ব্র্যান্ডের স্থানীয় পরিবেশক এখন নেই। আবার বাজারে অনেক রি-মার্ক করা ক্যাপাসিটরও থাকে, যা বসালে কয়েক মাসেই ব্যাংক ট্রিপ করে। তাই সঠিক মিল খোঁজার জন্য আসল পার্টনাম্বারের পেছনে না ছুটে, প্যারামিটার-ভিত্তিক ক্রস-রেফারেন্স করা দরকার — আর ইনকামিং যাচাই না করলে এই বদলই নতুন ঝুঁকি তৈরি করে।
কেন আসল পার্ট পাওয়া যায় না
কারণ মূলত তিনটি। প্রথমত, প্যানেল প্রস্তুতকারক পুরনো মডেলের ক্যাপাসিটরের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, অল্প পরিমাণের অর্ডারে স্থানীয় সরবরাহকারী আমদানি করতে আগ্রহী নয়। তৃতীয়ত, প্যানেলের ক্যাবিনেটে পুরনো মাউন্টিং স্পেস, কিন্তু নতুন ক্যাপাসিটরের ক্যানের আকার বদলে গেছে। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা পার্টনাম্বারের অপেক্ষা না করে, স্পেসিফিকেশন-ভিত্তিক সমতুল্য ক্যাপাসিটর বাছাই করাই দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান।
কোন প্যারামিটার হুবহু মেলাতে হবে
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেটেড ভোল্টেজ। বাংলাদেশের লো-ভোল্টেজ নেটওয়ার্ক সাধারণত ৪১৫ ভোল্ট (লাইন-টু-লাইন)। এই সিস্টেমে ৪১৫ ভোল্ট রেটিংয়ের ক্যাপাসিটর বসানো উচিত নয়; অন্তত ৪৪০ ভোল্টের, ভালো হয় ৪৮০ ভোল্টের ক্যান। সিস্টেমে ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে কম-রেটেড ক্যান ফুলে গিয়ে তেল লিক করতে পারে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো kvar রেটিং। ত্রি-ফেজ ডেল্টা সংযোগে মোট Q = 3 × 2πf × Cফেজ × V², যেখানে V হলো লাইন-টু-লাইন ভোল্টেজ এবং Cফেজ হলো ডেল্টার প্রতিটি শাখার ক্যাপাসিট্যান্স। ভোল্টেজ বদলালে kvar ভোল্টেজের বর্গের অনুপাতে বদলায়: ৪৪০ ভোল্টের ক্যাপাসিটর ৪১৫ ভোল্টে বসালে প্রকৃত kvar হয় রেটেড kvar × (415/440)², অর্থাৎ প্রায় ০.৮৯ গুণ। তাই ২৫ kvar-এর ক্যান তখন দেবে মাত্র ২২.৩ kvar। ব্যাংকের মোট ক্ষতিপূরণ যেন প্রয়োজনীয় মানের ±১০% সীমার মধ্যে থাকে, সেটি হিসাব করে বাছাই করতে হবে।
তৃতীয় বিষয় হলো ফ্রিকোয়েন্সি — ৫০ Hz-এর জন্য রেটেড ক্যাপাসিটর ৬০ Hz সার্কিটে ব্যবহার করা যাবে না। চতুর্থ হলো তাপমাত্রা। টেক্সটাইল মিলের ফ্লোরে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৫–৫০°C চলে যায়, তাই IEC 60831 অনুযায়ী তাপমাত্রা ক্লাস D (সর্বোচ্চ ৫৫°C) বা তার বেশি রেটেড ক্যাপাসিটর নির্বাচন করা ভালো। ESR ও ডিসচার্জ রেজিস্টরের শর্তসহ পুরো বিষয়টি নিচের টেবিলে দেখানো হলো।
| প্যারামিটার | কীভাবে মেলাবেন | কোনটায় ছাড় দেওয়া যায় |
|---|---|---|
| সিস্টেম ভোল্টেজ | ৪১৫V সিস্টেমে কমপক্ষে ৪৪০V রেটেড ক্যান | বেশি ভোল্টেজ রেটিং নিলে সমস্যা নেই, তবে kvar-এর ডিরেটিং হিসাব করুন |
| kvar / ক্যাপাসিট্যান্স | নামপ্লেটের ±৫%; ডেল্টায় টার্মিনাল-টু-টার্মিনাল মাপের সঙ্গে মিলান | পুরনো ক্যাপাসিটরে ±১০% পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য, তবে ব্যাংকের মোট kvar প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে |
| ফ্রিকোয়েন্সি | ৫০ Hz ক্যান | ৬০ Hz-এ বসাবেন না |
| তাপমাত্রা ক্লাস | D (৫৫°C) বা তার বেশি | C ক্লাস কেবল নিয়ন্ত্রিত এসি রুমে |
| tan δ / ESR | ২০°C-তে tan δ প্রায় ০.০০২ | ০.০০৫-এর বেশি হলে অপচয় ও তাপ বাড়বে |
| ডিসচার্জ রেজিস্টর | ৩ মিনিটে টার্মিনাল ভোল্টেজ ৭৫V-এর নিচে | বেশি সময় লাগলে ডিসচার্জ সার্কিটে ত্রুটি, ঝুঁকি নেবেন না |
| ক্যানের মাপ ও টার্মিনাল | মাউন্টিং পিচ ও টার্মিনাল টাইপ (স্টাড বা ব্লেড) মেলান | পিচ না মিললে বুশবার বা অ্যাডাপ্টার লগ দিয়ে সমন্বয় করুন |
ইনকামিং যাচাইয়ের ধাপ
নতুন ক্যাপাসিটর প্যানেলে তোলার আগে নিচের ধাপগুলো নিয়ম করে করুন।
- ক্যানের গায়ে ফোলা অংশ, তেল লিক বা টার্মিনালে জং আছে কিনা পরীক্ষা করুন।
- ক্যাপাসিটরকে রেটেড ভোল্টেজে চার্জ করে সুইচ অফ করুন; ৩ মিনিট পর টার্মিনাল ভোল্টেজ ৭৫V-এর নিচে নামতে হবে।
- LCR মিটার দিয়ে ক্যাপাসিট্যান্স মাপুন; ডেল্টা ব্যাংকের টার্মিনাল-টু-টার্মিনাল মান নামপ্লেট থেকে হিসাবকৃত মানের ±৫–১০% এর মধ্যে থাকতে হবে। যেমন, ৫০ kvar, ৪৪০V ডেল্টা ব্যাংকে এই মান প্রায় ৪১০ µF পাওয়া উচিত।
- ESR / tan δ মাপুন; ২০°C-তে tan δ ০.০০৫-এর বেশি হলে ক্যাপাসিটর বসাবেন না।
- তিন ফেজের ক্যাপাসিট্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য দেখুন — এক ফেজ অন্য দুই ফেজ থেকে ৫%-এর বেশি আলাদা হলে ব্যাংকে অসম কারেন্ট বণ্টন হবে।
বসানোর পর প্রতিটি ফেজের কারেন্ট মাপুন। ক্যাপাসিটরের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অনুমোদিত কারেন্ট সাধারণত রেটেড কারেন্টের ১.৩ গুণ। এর বেশি কারেন্ট হলে সমস্যা প্যানেলের হার্মোনিক বা ভোল্টেজের, ক্যাপাসিটরের নয় — তখন ফিল্টার বা ডিটিউনড রিয়্যাক্টরের কথা ভাবতে হবে। এই পদ্ধতিতে বাছাই ও যাচাই করলে পুরনো প্যানেলে নতুন ক্যাপাসিটর ব্যাংক নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করবে।

AKKN Electronics Bangladesh