Warning: file_exists(): open_basedir restriction in effect. File(/mnt/www/wwwroot/www.akkn.com/wp-content/plugins/wp-rocket/) is not within the allowed path(s): (/mnt/sites/www.akkn.com/:/tmp/) in /mnt/sites/www.akkn.com/wp-content/advanced-cache.php on line 17
নকল ও রি-মার্ক করা ক্যাপাসিটর চেনার উপায়: ইনকামিং পরীক্ষায় টেক্সটাইল মিলের নির্ভরযোগ্যতা - AKKN Electronics Bangladesh
welcome
We've been working on it

নকল ও রি-মার্ক করা ক্যাপাসিটর চেনার উপায়: ইনকামিং পরীক্ষায় টেক্সটাইল মিলের নির্ভরযোগ্যতা

টেক্সটাইল মিলের ইনভার্টার ও ড্রাইভ সিস্টেমে DC লিংক ক্যাপাসিটর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। স্পিনিং ফ্রেম, লুম ও ডাইং মেশিনের ইনভার্টারগুলোতে এই ক্যাপাসিটর রিপল কারেন্ট শোষণ করে এবং ভোল্টেজ স্থিতিশীল রাখে। বাজারে নকল বা রি-মার্ক করা ক্যাপাসিটর একটি পরিচিত ঝুঁকি। ইনকামিং পরীক্ষায় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এসব যন্ত্রাংশ শনাক্ত করা সম্ভব এবং অপ্রত্যাশিত ডাউনটাইম এড়ানো যায়।

টার্গেট যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক চাপ

টেক্সটাইল মিলের পরিবেশ বিদ্যুৎ যন্ত্রাংশের জন্য কঠিন। স্পিনিং মেশিনের ইনভার্টার দিনে ১৬-২০ ঘণ্টা চলে এবং সুইচিং ফ্রিকোয়েন্সিতে রিপল কারেন্ট তৈরি করে। ডাইং প্ল্যান্টে আর্দ্রতা ও রাসায়নিক বাষ্প থাকে; ঘরের তাপমাত্রা ৪৫-৫৫°C ছুঁতে পারে। শহরের গ্রিডে ভোল্টেজ ওঠানামা ১০-১৫% পর্যন্ত হতে পারে। এই অবস্থায় DC লিংক ক্যাপাসিটরের ভোল্টেজ রেটিং, রিপল কারেন্ট ক্ষমতা ও তাপীয় স্থায়িত্ব যথেষ্ট না হলে যন্ত্রাংশ কয়েক মাসেই ফুলে উঠে বা লিকেজ কারেন্ট বেড়ে যায়।

সাধারণ ৪১৫V থ্রি-ফেজ ইনপুটে DC বাস ভোল্টেজ প্রায় ৫৬০-৫৯০V হয়ে থাকে। ভোল্টেজ স্পাইক ও রিজেনারেটিভ ব্রেকিং-এর সময় এই মান ৬৫০V ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই DC লিংক ক্যাপাসিটরের রেটেড ভোল্টেজ স্বাভাবিক DC বাস ভোল্টেজের কমপক্ষে ১.২৫ গুণ হওয়া প্রয়োজন। রিপল কারেন্টের ক্ষেত্রে পরিমাপিত সর্বোচ্চ মানের কমপক্ষে ১.৮ গুণ রেটিং থাকা উচিত।

যন্ত্রাংশ থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য

উপরের বৈদ্যুতিক চাপ থেকে ক্যাপাসিটরের প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

প্যারামিটারগ্রহণযোগ্য মানপরীক্ষার শর্ত
ক্যাপাসিট্যান্সনামফলকের ±২০% এর মধ্যে১০০Hz, ২৫±৩°C, LCR মিটার
রেটেড ভোল্টেজসর্বোচ্চ DC বাস ভোল্টেজ × ১.২৫সাধারণত ৪৫০V বা ৫০০V DC
রিপল কারেন্টপরিমাপিত সর্বোচ্চ × ১.৮১০০kHz, ৮৫°C বা ১০৫°C
ESR (সমতুল্য সিরিজ রেজিস্ট্যান্স)ডেটাশিট মানের ±১৫% এর মধ্যে১০০kHz, ২৫°C
লিকেজ কারেন্ট০.০১ CV (µA) বা ৫µA, যেটি বেশিরেটেড ভোল্টেজে ৫ মিনিট, ২৫°C
আয়ুষ্কাল৮৫°C তে ক্যাপাসিট্যান্স ≤ ৮০%১০,০০০ ঘণ্টা বা তার বেশি

এখানে C মাইক্রোফ্যারাড এবং V ভোল্ট। উদাহরণস্বরূপ, ৪৭০µF/৪৫০V ক্যাপাসিটরের অ্যালাউয়েবল লিকেজ কারেন্ট হবে ০.০১ × ৪৭০ × ৪৫০ = ২১১৫ µA; তবে সাধারণত ৫ মিনিটের পর মান ৫০০µA এর নিচে থাকা স্বাভাবিক। টেবিলের মানগুলো ডেটাশিটের ভিত্তিতে; বাস্তবে সরবরাহকারীর নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন যাচাই করা প্রয়োজন।

ইনকামিং পরীক্ষা: নকল ও রি-মার্ক শনাক্তকরণ

নকল ক্যাপাসিটর শনাক্ত করতে কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা করা দরকার:

  • ভিজ্যুয়াল পরিদর্শন: শরীরের প্রিন্ট অসমান, ফন্ট ঘন/পাতলা, রঙের পার্থক্য, অথবা লোগোতে অসামঞ্জস্য থাকলে সন্দেহ করা উচিত। পুরনো অংশে টার্মিনাল ক্ষত, বিবর্ণ কেসিং বা ভেন্টের বিকৃতি দেখা যায়।
  • ক্যাপাসিট্যান্স ও ESR পরিমাপ: LCR মিটার দিয়ে ১০০Hz ও ১০০kHz উভয় ফ্রিকোয়েন্সিতে মান মাপুন। নামফলকের ±২০% এর বাইরে গেলে প্রত্যাখ্যান করুন। ESR ডেটাশিটের চেয়ে ১৫% বেশি হলে তাপ উৎপাদন বেড়ে যাবে।
  • ওজন ও মাত্রা: ইলেক্ট্রোলাইট শুকিয়ে গেলে ক্যাপাসিটরের ওজন কমে যায়। একই মডেলের একাধিক টুকরার মধ্যে ওজনের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলে তা পুরনো বা পুনর্ব্যবহৃত অংশের লক্ষণ।
  • রাবার সিল: রাবার সিল পুরনো, শক্ত বা রঙ বদলানো হলে তাপীয় ইতিহাস আছে বুঝা যায়। ভেন্ট উঁচু হয়ে থাকা মানে অতীত ওভারভোল্টেজ বা রিভার্স পোলারিটির ইঙ্গিত।

ইনস্টলেশন ও টেস্ট নোট

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্যাপাসিটর ইনস্টল করার সময় বাসবার বোল্টের টর্ক নির্দেশনা অনুযায়ী লাগান; বেশি টর্ক দিলে টার্মিনালে ফাটল ধরতে পারে। ক্যাপাসিটরের কেসিং অন্য ধাতব অংশের সংস্পর্শে থাকলে কম্পনজনিত ক্ষয় দেখা দিতে পারে; তাই পুরনো ক্ল্যাম্প ও মাউন্টিং বন্ধনী যাচাই করুন।

ইনস্টলেশনের পর প্রথমে নো-লোড অবস্থায় DC বাস ভোল্টেজ মাপুন। ভোল্টেজ লাইনিয়ারভাবে বাড়ছে এবং রিপল ভোল্টেজ ১% এর নিচে আছে কিনা দেখুন। প্রথম ৮-১০ ঘণ্টা পরিচালনার সময় ক্যাপাসিটরের কেসিং তাপমাত্রা পরিমাপ করুন; পরিবেশ তাপমাত্রার ৫-১০°C এর বেশি হলে ডিরেটিং প্রয়োজন।

৮৫°C রেটেড ক্যাপাসিটর ৭৫°C তাপমাত্রায় চালালে রেটেড আয়ুষ্কাল প্রায় দ্বিগুণ হয়; এই নিয়ম অ্যালুমিনিয়াম ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের জন্য প্রচলিত একটি অনুমান। তাই ইনকামিং পরীক্ষায় কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে এবং উৎপাদন লাইনের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ে।

Recommended Article