welcome
We've been working on it

নকল ও রিমার্কড ক্যাপাসিটর শনাক্তকরণের যাচাই পদ্ধতি: মিল রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর কৌশল

টেক্সটাইল মিলের ইনভার্টার, সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই ও কন্ট্রোল প্যানেলে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর প্রায়ই নকল বা রিমার্কড অংশে প্রতিস্থাপিত হয়। নকল অংশে মূল নির্মাতার লোগো ও ডেটাশিট মান অপরিবর্তিত রাখা হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ডাইইলেকট্রিক স্তর, ইলেক্ট্রোলাইট রসায়ন ও কেসের আকার ভিন্ন হয়ে থাকে। রিমার্কড অংশে পুরনো, বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্টোরেজে অবনমিত একটি ক্যাপাসিটরের ঢাকনা পরিষ্কার করে নতুন তারিখ কোড ও শ্রেণি চিহ্ন মুদ্রণ করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই ডেটাশিটের প্রতিশ্রুত আয়ুষ্কাল, তাপীয় প্রতিরোধ ও রিপল ধারণ ক্ষমতা বাস্তবে পাওয়া যায় না।

ইনকামিং ইনস্পেকশনে মাত্র কয়েকটি পরিমাপ ও চাক্ষুষ যাচাইয়ের মাধ্যমে এগুলো আলাদা করা সম্ভব। নিচের সিদ্ধান্ত সীমাগুলো সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (৬.৩–৪৫০ ভোল্ট, ২২০–৪৭০০ μF) শ্রেণিতে প্রযোজ্য।

মূল পরামিতির সিদ্ধান্ত সীমা

  • ক্যাপাসিট্যান্স (১২০ Hz): LCR মিটার দিয়ে ১ ভোল্ট এসি, ১২০ Hz ফ্রিকোয়েন্সিতে মাপুন। জিনুইন অংশ রেটেড মানের ±২০% সহনশীলতার মধ্যে থাকে; ±৩০% বা ততোধিক বিচ্যুতি নকল হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
  • ESR (১০০ kHz): কম ESR শ্রেণির ৪৭০ μF/৪৫০ V অংশে ESR সাধারণত ৫০–২০০ mΩ অঞ্চলে থাকে; মাপা অংশের মান ডেটাশিটের সর্বোচ্চ সীমা থেকে ২ গুণ বা তার বেশি হলে সন্দেহ করুন। উচ্চ ESR রিপল কারেন্টে তাপ উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ভেন্ট ফুলে ওঠে এবং গ্যাস তৈরি হয়।
  • লিকেজ কারেন্ট: রেটেড ভোল্টেজ ৫ মিনিট প্রয়োগের পর ০.০১×C×V মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার সীমার নিচে স্থির হওয়া উচিত (কিছু নির্মাতা ০.০৩CV দেয়)। নকল অংশে লিকেজ স্থির হয় না, প্রায়শই ১০ গুণ উচ্চ মানে ঘোরাফেরা করে।
  • ট্যান ডেল্টা (১২০ Hz): ডিসিপেশন ফ্যাক্টর ০.২০–এর নিচে থাকা জিনুইন অংশের প্রত্যাশিত; ০.২৫–এর বেশি হলে মার্কিং নকল বা স্টোরেজ-অবনমিত অংশের ইঙ্গিত।
  • মার্কিং ও তারিখ কোড: জিনুইন অংশের ছাপ অভিন্ন ফন্টে স্পষ্ট; লেজার এমবসড চিহ্ন ঘষে মুছে যায় না। রিমার্কড অংশে তারিখ কোড ও ব্যাচ নম্বরের ফন্ট ভিন্ন, বা পুরনো ছাপের পাশে নতুন ছাপ দেখা যায়।
  • ভর ও মাত্রা: একই কেস সাইজের অংশের ওজন তুলনা করুন; ডেটাশিট থেকে ১৫% বা তার বেশি হালকা হলে কেসের ভেতর অন্য নির্মাতার উপাদান বসানো হতে পারে।

জিনুইন ও নকল অংশের তুলনা

যাচাই পরামিতিজিনুইন অংশনকল/রিমার্কড অংশ
ক্যাপাসিট্যান্স (১২০ Hz)রেটেড মানের ±২০%±৩০% বা ততোধিক বিচ্যুতি
ESR (১০০ kHz)ডেটাশিট সীমার মধ্যেডেটাশিট মানের ২–৩ গুণ
লিকেজ কারেন্ট৫ মিনিটে ০.০১CV μA-এর নিচেস্থির হয় না; ১০ গুণ বেশি
ট্যান ডেল্টা০.২০–এর নিচে০.২৫–এর বেশি
মার্কিংলেজার এমবসড, অভিন্ন ফন্টপুনঃমুদ্রিত, ভিন্ন ফন্ট, দাগ
ভরডেটাশিট অনুযায়ী ±১৫%সাধারণত হালকা

ধাপে ধাপে যাচাই পদ্ধতি

  1. চাক্ষুষ পরিদর্শন: ভেন্ট নখর স্পষ্ট ও অক্ষত, তলায় ফোলা নেই, টার্মিনাল জংমুক্ত; মার্কিংয়ের ছবি উচ্চ রেজোলিউশনে তুলে নির্মাতার ক্যাটালগ ফটোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
  2. LCR মিটার দিয়ে ক্যাপাসিট্যান্স ও ট্যান ডেল্টা মাপুন (১২০ Hz, ১ V AC)।
  3. ESR মিটার দিয়ে ১০০ kHz-এ ESR মাপুন; ডেটাশিটে দেওয়া সর্বোচ্চ ESR-এর সঙ্গে তুলনা করুন।
  4. ডিসি সোর্স দিয়ে রেটেড ভোল্টেজ প্রয়োগ করে ৫ মিনিটে লিকেজ কারেন্ট রেকর্ড করুন।
  5. ক্যালিপার ও ডিজিটাল ওজনের সাহায্যে মাত্রা ও ভর ডেটাশিট থেকে যাচাই করুন।
  6. ফলাফল লগে রেকর্ড করুন; ২টি ভিন্ন ব্যাচের নমুনার তুলনা করলে অসঙ্গতি বেরিয়ে আসে। দুটি ভিন্ন পরামিতিতে সিদ্ধান্ত সীমার বাইরে গেলে অংশটি গ্রহণ করবেন না।
যে অংশের মার্কিং ঘষা-পড়া, তারিখ কোড পুনর্মুদ্রিত বা ESR ডেটাশিটের সর্বোচ্চ মান থেকে ২ গুণ বেশি, তা একবার ইনভার্টারে বসালে রিপল কারেন্টের তাপীয় স্ট্রেসে ভেন্ট ফুলে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হয়। গোড়ার সাশ্রয় শেষ পর্যন্ত ডাউনটাইম, ড্রাইভ ক্ষতি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে বহুগুণ হয়ে ফিরে আসে।

Recommended Article