বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিল ও পাওয়ার সাবস্টেশনে ক্যাপাসিটর নষ্ট হওয়া একটি নিয়মিত সমস্যা। ইনভার্টার বা পাওয়ার সার্কিটে ক্যাপাসিটর ফেইল করলে রক্ষণাবেক্ষণ ইঞ্জিনিয়ারকে দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে হয়। যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকার অর্থ মিলের উৎপাদন ক্ষতি, তাই অনেকে সময় বাঁচাতে বাজারের যেকোনো “সমতুল্য” অংশ কিনে ফেলেন। কিন্তু দেখা যায়, অরিজিনাল ক্যাপাসিটরটি আর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না — এবং এই ফাঁকটিই বাজারে নকল বা রি-মার্কড ক্যাপাসিটরের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।
অরিজিনাল অংশ পাওয়া না যাওয়ার সাধারণ কারণগুলো হলো:
- ইনভার্টার বা পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মডেল পুরনো হয়ে গেছে, প্রস্তুতকারক সেই সিরিজটি বন্ধ করে দিয়েছে।
- অরিজিনাল অংশটি অন্য দেশ থেকে আমদানি হয়; ডেলিভারি লিড টাইম ৮-১২ সপ্তাহ, যা জরুরি মেরামতের জন্য অনেক দীর্ঘ।
- স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে শুধুমাত্র অন্যান্য সিরিজ বা অন্য ভোল্টেজ রেটিংয়ের স্টক রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কিছু সরবরাহকারী “সরাসরি সমতুল্য” বলে অংশ বিক্রি করেন। দাম ও চেহারা দেখে অনেক ইঞ্জিনিয়ার অর্ডার দেন, কিন্তু ইনকামিং ইন্সপেকশন না করলে নকল অংশের মেরামতই শেষ পর্যন্ত বেশি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নকল বা রি-মার্কড অংশ কেন বিপজ্জনক
রি-মার্কড ক্যাপাসিটরের গায়ে অরিজিনালের স্পেসিফিকেশন ছাপা থাকে, কিন্তু ভেতরের কোর বা ইলেকট্রোলাইটের মান ভিন্ন। কিছু ক্ষেত্রে পুরনো, ব্যবহারকৃত অংশের গায়ে নতুন প্রিন্ট দেওয়া হয়; অন্য ক্ষেত্রে কম ভোল্টেজের অংশে বেশি ভোল্টেজের লেবেল লাগানো হয়। ফলে সার্কিটে বসানোর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুলে ওঠা, লিকেজ, বা ওপেন সার্কিট দেখা দেয়। টেক্সটাইল মিলের পরিবেষ্টন তাপমাত্রা ও ধুলাবালি এই সমস্যাকে আরও ত্বরান্বিত করে।
কোন পরামিতি অবশ্যই মিলতে হবে
প্রতিস্থাপনের সময় চারটি পরামিতিকে প্রথম শ্রেণিতে রাখতে হবে — ক্যাপাসিট্যান্স, রেটেড ভোল্টেজ, রিপল কারেন্ট এবং তাপমাত্রা রেঞ্জ। এগুলোর যেকোনো একটির বিচ্যুতি সার্কিটের আচরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ডিসি-লিংক ফিল্টারে ক্যাপাসিট্যান্স কম হলে ভোল্টেজ রিপল বেড়ে যায় এবং ইনভার্টারের সুইচিং ডিভাইসে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
রিপল কারেন্ট রেটিং তাপমাত্রা নির্ভর। একটি ক্যাপাসিটরের রিপল কারেন্ট রেটিং ৮৫°C এবং ১০০ কিলোহার্টজে দেওয়া থাকে; সে ক্ষেত্রে ৬০°C পরিবেষ্টন তাপমাত্রায় ডিরেটিং ফ্যাক্টর প্রয়োগ করে বাড়তি রিপল সহ্য করা যায়। ইনকামিং ইন্সপেকশনে নমুনা ক্যাপাসিটরের রিপল কারেন্ট সরাসরি মাপা সহজ নয়, তবে ডেটাশিটের রেটিংয়ের সাথে গায়ে লেখা স্পেক মিলিয়ে যাচাই করা যায়।
নিচের টেবিলে মূল পরামিতিগুলোর তুলনা দেখানো হলো:
| পরামিতি | অবশ্যই মিলবে? | অনুমোদিত পার্থক্য | বিচ্যুতি হলে ঝুঁকি |
|---|---|---|---|
| ক্যাপাসিট্যান্স (µF) | হ্যাঁ | ডেটাশিট অনুযায়ী সাধারণত ±১০% টলারেন্স | ফিল্টারিং কমে যায়, রিপল বাড়ে |
| রেটেড ভোল্টেজ (V DC) | হ্যাঁ | অরিজিনালের সমান বা বেশি; কম হলে চলবে না | সার্জ লোডে পাংচার ও শর্ট সার্কিট |
| রিপল কারেন্ট (A @ ১০০ kHz) | হ্যাঁ | অরিজিনালের কম নয় | অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে আয়ুষ্কাল কমে |
| ESR বা ট্যান δ | হ্যাঁ | ESR অনুরূপ বা কম; বেশি হলে চলবে না | সিরিজ লস বাড়ে, হিটিং হয় |
| তাপমাত্রা রেঞ্জ | হ্যাঁ | -৪০°C ~ +৮৫°C বা +১০৫°C রেটেড অংশ | উচ্চ তাপে ইলেকট্রোলাইট শুকিয়ে যায় |
| কেস ব্যাস ও উচ্চতা | না | ±২ মিমি ব্যাস, ±৩ মিমি উচ্চতা | ক্ল্যাম্প মাউন্টিংয়ে ফিট সমস্যা |
| লিড স্পেসিং | না | ±১.৫ মিমি (বেন্ড করা সম্ভব) | পিসিবি হোলে ঢোকানো কঠিন |
কেস সাইজ বা লিড স্পেসিংয়ে সামান্য পার্থক্য গ্রহণযোগ্য, তবে সেগুলো আগে ফিজিক্যাল মেপে নেওয়া দরকার। ক্ল্যাম্প মাউন্টিং টাইপের ক্যাপাসিটরে ব্যাসের পার্থক্য ২ মিলিমিটারের বেশি হলে বসবে না। ESR পরিমাপের ফ্রিকোয়েন্সিও গুরুত্বপূর্ণ — এলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরে সাধারণত ১০০ কিলোহার্টজে ESR তুলনা করা হয়; ১২০ হার্টজের মান ভিন্ন হতে পারে।
ইনকামিং ইন্সপেকশনের কার্যকর ধাপ
- ভিজ্যুয়াল ইন্সপেকশন: প্যাকেজিং-এর প্রিন্ট কোয়ালিটি, সিরিয়াল কোডের অবস্থান, লেজার মার্কিং বা ইনকজেট প্রিন্টের পার্থক্য লক্ষ করুন। রি-মার্কড অংশে লেবেলের পেছনে পুরনো ছাপ বা ঘষার দাগ থাকে।
- ডাইমেনশন মাপ: ভার্নিয়ার ক্যালিপার দিয়ে ব্যাস, উচ্চতা এবং লিড স্পেসিং মাপুন। স্পেকের চেয়ে বড় পার্থক্য থাকলে নকল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- এলসিআর পরিমাপ: এলসিআর মিটার দিয়ে ক্যাপাসিট্যান্স, ESR ও ট্যান δ পরিমাপ করুন। ক্যাপাসিট্যান্স রেটেডের ±১০%-এর বাইরে হলে বাতিল করুন; ESR ডেটাশিটের চেয়ে ২ গুণ বেশি হলে এড়িয়ে চলুন।
- লিকেজ কারেন্ট পরীক্ষা: এলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরে রেটেড ভোল্টেজ প্রয়োগ করে লিকেজ কারেন্ট মাপুন। কয়েক মিনিটের মধ্যে লিকেজ কারেন্ট স্থির না হলে অংশটি পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পরীক্ষা: নমুনায় রেটেড রিপল কারেন্টের কাছাকাছি স্রোত চালিয়ে কেসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করুন। পরিবেষ্টন তাপমাত্রার চেয়ে ১০°C বেশি গরম হলে ডিরেটিং সঠিক নয় বলে ধরে নেওয়া যায়।
- ব্যাচ স্যাম্পলিং: প্রতিটি সরবরাহ ব্যাচ থেকে কমপক্ষে ৩-৫টি নমুনা পরীক্ষা করুন; বড় কনসাইনমেন্টে AQL ২.৫ লেভেলের স্যাম্পলিং প্ল্যান ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রতিস্থাপনের সময় মূল ক্যাপাসিটরের গায়ের স্পেসিফিকেশন আগে নোট করে নিন। শুধু ক্যাপাসিট্যান্স ও ভোল্টেজ নয়, রিপল কারেন্ট এবং ESR রেটিং মিলিয়ে তারপর ইনভার্টারের সার্কিটে বসান। একাধিক পরীক্ষার সমন্বয়ই নকল বা রি-মার্কড অংশ চেনার কার্যকর উপায় — একক পরিমাপে অনেক সময় প্রকৃত অবস্থা ধরা পড়ে না।